অতিথিদের বক্তব্য (পুরুষ )
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله
والصلاة والسلام على رسول الله
ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হচ্ছে এটি জ্ঞানের দ্বীন। এই দ্বীন তাঁর সর্বশেষ বার্তাবাহকের কাছে যখন নাযিল হয় তখন প্রথম বাণীই ছিল, اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَق, “পাঠ করুন সেই রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন”। [সূরা আলাক: ১]
এজন্য জ্ঞান চর্চার ওপর এই দ্বীন প্রচণ্ড গুরুত্ব আরোপ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
قُلۡ هَلۡ یَسۡتَوِی ٱلَّذِینَ یَعۡلَمُونَ وَٱلَّذِینَ لَا یَعۡلَمُونَۗ
“বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান?”। [সূরা যুমার: ৯]
আর এজন্যই ইলম অর্জন ও তাঁর ওপর আমল করাকে ইসলাম ফরয করে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
“ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরয”। [সুনানু ইবনি মাজাহ, হা: ২২৪]
এই আবশ্যিকতা কেবল পুরুষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা নারীদের মাঝেও পরিব্যাপ্ত। বস্তুত প্রত্যেক মানুষের জন্যই ইসলাম ইলম অর্জনকে আবশ্যক করেছে। তাই ইলম অর্জন আমাদের কাছে এক সুমহান ইবাদাত, যে ইবাদাতের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তাআলাকে চিনি, তাঁর দ্বীনকে জানি, তাঁর পছন্দনীয় আমল শিখি, তাঁকে ভালোবাসতে শিখি, তাঁর জন্য জীবনযাপন করতে শিখি। আর এটাই সেই বস্তু যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আদম [আ.] কে ফেরেশতাদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তাই তো এই উম্মাহর মহান শিক্ষক রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
فَضْل الْعِلْمِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ فَضْلِ الْعِبَادَة
“ইলমের আধিক্য আমার নিকট ইবাদাতের আধিক্য অপেক্ষা অধিক প্রিয়”। [আল মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, হা: ৩১৭]
এছাড়া এক দুর্বল সনদের হাদিসে এসেছে, وَإِنَّمَا بُعِثْتُ مُعَلِّمًا
“আর আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি”। [সুনানু ইবনি মাজাহ, হা: ২২৯]
এর সনদ দুর্বল হলেও মূল বক্তব্য সঠিক।
তাই খোদ রাসূলুল্লাহর ﷺ যুগ থেকে নিয়ে আজ অবধি এই উম্মাহ দ্বীনের শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এই উম্মাহর সকল সদস্য তা সে পুরুষ হোক, নারী হোক, বৃদ্ধ হোক বা শিশু হোক সবার মাঝে ইলমের প্রচার ও প্রসারের জন্য আলিমগণ গুরুত্বপূর্ণ খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।
এই কর্মযজ্ঞে “তা’লিমুন নিসা” একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। মা শা আল্লাহ তাঁরা ইতোমধ্যেই অনেকটা পথ পারি দিয়ে এসেছে। তাঁরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোর্স ইতোমধ্যেই আয়োজন করেছেন, এছাড়া বেশ কিছু ওয়েবিনারও করেছেন। আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে তাঁদের একটি কাজে আমিও শরীক হবার তাওফিক পেয়েছিলাম, ফালিল্লাহিল হামদ।
এই অঞ্চলে দীর্ঘকাল যাবৎ নারীরা ইসলামী জ্ঞান থেকে বিভিন্ন কারণেই কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন। তবে সম্প্রতি আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। বিশেষ করে অনলাইনে বিভিন্ন ইসলামী একাডেমির আবির্ভাবের ফলে মা-বোনরা ঘরে বসেই পর্দা রক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি ইলম অর্জন করতে পারছেন এবং আলহামদুলিল্লাহ, তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে করছেনও।
আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা অত্র প্রতিষ্ঠানকে কবুল করুন, তাঁদেরকে ইখলাস দান করুন, এই আমলকে আরও এগিয়ে নেবার তাওফিক দিন, এর মাধ্যমে মানুষকে অধিক পরিমাণে উপকৃত করুন আর এর উসিলায় এর সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ক্ষমা করে দিন ও জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা দান করুন-আমিন।
العبد الفقير إلى رحمة ربه
উস্তাজ মানযুরুল কারিম