Taleemun Nisa

তা’লিমুন নিসা

✅তা’লিমুন নিসা – শুরুর গল্প
দুই হাজার একুশ । আগস্টের খরতাপের কোনো এক দিনে হাতেগোনা কিছু তলিবাতুল ইলম নিয়ে তা’লিমুন নিসার পথচলা শুরু হয়েছিলো। নীড়হারা পাখিদের নীড়ে ফেরানোর ফিকির থেকে ছোট্ট কাফেলা নিয়ে ছোট ছোট পায়ে হাঁটতে শুরু করেছিলাম আমরা । মুসলিম মেয়েদের নিয়ে নিয়মিত তা’লিমের মাধ্যমে এই দাওয়াতি খেদমতের শুরু হওয়ায় নিজেদের নাম পরিচয় দেয়া হয়েছিলো “তা’লিমুন নিসা”।

✅ তা’লিমুন নিসার লক্ষ্য – উদ্দেশ্য 
ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহিমাল্লাহের বেশ বিখ্যাত একটা উক্তি আছে ,

“নারীরা সমাজের অর্ধেক আর তারা সমাজের বাকি অর্ধেককে জন্ম দেয়। তাই বাস্তবে পুরো সমাজই নারীর অবদান ও অস্তিত্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।”
যে গাছের শেকড় যত মজবুত হবে, যতটা গভীরে যাবে, যত বেশি পুষ্টি পাবে সে গাছ ততো বেশি ফল – ফলাদিতে পরিপূর্ন হতে পারবে। ঠিক তেমনি একজন মায়ের দ্বীনের ইলম- তারবিয়াত যত পোক্ত হবে,তা তার নিজের, সংসারের, সন্তানের উপর ততো ভালো প্রভাব ফেলবে। যদি আমরা একটি আদৰ্শ উম্মাহ দাঁড় করাতে চাই, নিশ্চয়ই আমাদের মা-বোনদেরকে নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রকৃত আল্লাহর বান্দী হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই ।তাই প্রতিটি ঘরে মা বোনদের মাঝে দ্বীন ও ইলমের নূরকে পৌঁছে দেয়াই তা’লিমুন নিসার উদ্দেশ্য।

✅তা’লিমুন নিসার কার্যপদ্ধতি 
হাজারো তর্ক আর যুক্তির দোলাচলের ফিতনার মাঝে সকল মাসলাকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দাওয়াতি মেহনত পরিচালনা করে যাচ্ছে তা’লিমুন নিসা। কারো মতের প্রতি তাচ্ছিল্য নেই,নেই ভিন্ন মত চাপিয়ে দেয়ার জবরদস্তি। শুধু বিশুদ্ধ দ্বীনের আলো প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দেয়াই তা’লিমুন নিসার মূল লক্ষ্য । 

অনলাইনে এতো ফিতনার মাঝেও আলেমদের তত্ত্বাবধানে, পরামর্শে যেভাবে তা’লিমুন নিসার দাওয়াতী কার্যক্রম চলছে –তা তা’লিমুন নিসার অন্যতম স্বকীয়তা আলহামদুলিল্লাহ। 

এখানে দ্বীন শেখার খাতিরে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই এক কাতারে বসে। দিনের আলো নিভে সন্ধ্যা নামলেই ভীড় জমে তা’লিমুন নিসার আঙ্গিনায়, শরিক হয় তা’লিমের মজলিশে। যে মজলিসে ভেদাভেদ নেই বয়স বা শিক্ষায়,ভেদাভেদ নেই যোগ্যতা কিংবা মর্যাদায়। এখানে সবাই আসে তা’লিম শুনে উত্তম তারবিয়াহ দিয়ে নিজেকে গড়তে,রবের রহমত কুড়াতে…সবার একটাই পরিচয়। আমরা আর-রহমানের বান্দী। 

দুনিয়াবি কোনো প্রতিদানকে প্রাধান্য না দিয়ে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে রেখে বোনেদের হক্ব আদায় করে প্রয়োগযোগ্য ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও দাওয়াহ কেন্দ্রিক, ফলপ্রসু ইলম ছড়িয়ে দিতে আল্লাহর দয়ায় সর্বদা কাজ করছে তা’লিমুন নিসা টিম। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় কোর্স ম্যাটেরিয়ালস ও উৎসাহমূলক পুরষ্কার প্রদান করা হয়। যেকোনো কোর্সে ২৪/৭ স্টুডেন্ট সাপোর্ট ছাড়াও সামর্থ্য বিবেচনায় স্কলারশিপের সু-ব্যবস্থাও রয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। 

খেদমতের সেক্টরসমূহ 
◾ তালিম হালাকাহ – এই সেক্টরে খেদমত চলে প্রায় সপ্তাহ জুড়ে, প্রতি সন্ধ্যায় ঈমানি জজবায় নিজেদেরকে উজ্জীবিত করতে আয়োজিত হয় তালিমের হালাকাহ। 
◾তা’লিমুন নিসা পাঠশালা – এই সেক্টরে আমরা ইলমের বিভিন্ন শাখার উপর পেইড কোর্স বা ওয়ার্কশপের আয়োজন করে থাকি।
◾ঘরোয়া তা’লিম – ঘরোয়া তালিম আমাদের এমন একটি প্রজেক্ট যেখানে আমাদের তত্ত্ববধানে এখন অব্দি প্রায় ৪০০+ বোন নিজেদের ঘরে তা’লিম করে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। 
◾ওয়ার্কশপ – রমাদান ওয়ার্কশপ সহ হাতে কলমে বিভিন্ন সেক্টরে বোনেদেরকে গড়ে তোলার জন্য আয়োজন করা হয়ে থাকে ভিন্নধর্মী ওয়ার্কশপসমূহ । 
◾ওয়েবিনার – প্রায় প্রতি মাসে সমসাময়িক বিষয়াদি নিয়ে আয়োজন করা হয় ওয়েবিনার।
◾অপরিহার্য দ্বীনি আলোচনা – প্রতি মাসের প্রথম ও তৃতীয় সপ্তাহে সম্মানিত শাইখ বিভিন্ন বিষয়ের উপর দারস নিয়ে থাকেন এবং মাসয়ালা – মাসায়েল কিংবা বোনেদের জীবন ঘনিষ্ট ইসলামী প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন আলহামদুলিল্লাহ।
◾দাওয়াহ সেশন – প্রায় এক মাস পর পর আয়োজিত হয় দাওয়াহ সেশন যেখানে সম্মানিত আলিম- ওলামাগন, দাঈ মুহতারামগণ মা বোনেদের উদ্দেশ্যে আলোচনা করে থাকেন। 
◾পডকাস্ট – এই সেক্টরে উম্মাহর কল্যানে কাজ করে যাওয়া কিংবা বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ, অভিজ্ঞ বোনেরা অতিথি হিসেবে আসেন এবং মা বোনেদের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে জানার সুযোগ হয়ে থাকে। 
◾মুসলিমাহ কনফারেন্স – প্রতি বছর মুসলিম উম্মাহর ঐক্যকে সামনে রেখে অনলাইনে মা-বোনেদের যারা খেদমত করছেন উম্মাহর কল্যাণের জন্য তাদের নিয়ে ইলমি দারসের আয়োজন হয় এই কনফারেন্স। অনলাইনে ফিতনামুক্ত ভাবে অসংখ্য বোনের সমাগম ঘটে এই কনফারেন্স এ। 
◾প্রোডাক্টিভিটি চ্যালেঞ্জ – মা বোনেদেরকে নিজেদের জীবনকে প্রোডাক্টিভভাবে গুছিয়ে আল্লাহর বান্দি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জভিত্তিক কাফেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। 
◾তা’লিমুন নিসা অডিওবুক – অডিওবুকের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত বই সমূহ অডিও আকারে একত্রিত করা হয়। যাতে করে কাজের ফাঁকে মা-বোনেরা শুনে শুনে এখান থেকে উপকৃত হতে পারেন। 

“আসমানী খামে আমার দুআ “বই,”প্রিয় পুষ্প সমীপে” সহ কিছু কাগুজে খেদমত পাঠক সমাজে বেশ সমাদৃত হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। 

এছাড়াও অনেকগুলো প্রজেক্ট এর কাজবাজ,ব্লগ রাইটিং, ওয়েবসাইট,ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেইসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে দাওয়াতি কাজ চলমান রয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। 

নারীদের ইলম অর্জন, তালিম, তারবিয়াহর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? 
“নারী যদি ইলম অর্জন করে, তার ইলম পুরো পরিবারকে নেকির পথে নিয়ে যায়।”
~ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহু

আল্লাহ তাঁ‘আলা নারীকে কেবল ঘরের রাণীই বানাননি, বরং তাকে জ্ঞান-প্রজ্ঞার এক অনন্য আধার করে সৃষ্টি করেছেন। যার হাতে আল্লাহ তাঁ’য়ালা ন্যস্ত করেছেন আগামীর প্রজন্ম তথা এই মানবজাতিকে দেখভালের সমস্ত দায়িত্ব। সাধারণ একজন মানুষকে মু’মিনে পরিণত করার এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই নারীর জীবনে ইলম ব্যতিত কোন জিনিস তাকে তার লক্ষ্যে কামিয়াব করতে পারে?
ইতিহাস সাক্ষী, মুসলিম উম্মাহর সোনালী যুগে বিজয়ের পেছনে যেমন মুজাহিদদের তরবারি ছিল, তেমনি ছিল মায়েদের দু‘আ ও তাকওয়াপূর্ণ তারবিয়াত।

যে নারীরা একসময় ঘরে ঘরে আল্লাহর ওলীদের জন্ম দিতেন , শিশুদের কোমল হৃদয়ে তাকওয়ার বীজ বুনে দিতেন , চোখে মুখে জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্ন এঁকে দিতেন । তাঁদের তারবিয়াহতে হক্ব- বাতিলের পার্থক্য করতে পারতো ছোট্ট শিশুরাও !

তাঁরা কেবল সন্তানদের মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিলেন তা নয়। সন্তানদের প্রথম উস্তাদও তাঁরাই ছিলেন।  মায়ের চিরপরিচিত স্বর সেই সাথে চিরচেনা পরিবেশেই সন্তানদের তা’লিমের ব্যবস্থা হয়ে যেত।  

কিন্তু আজ?
আজকের সেই মুসলিম নারীকেই যখন পশ্চিমা সভ্যতা ‘এমপাওয়ারমেন্ট’-এর নামে রাজপথে নামাচ্ছে, তখন ঘরে ঘরে তারবিয়াতের বাতি নিভে যাচ্ছে। শিশুর কোমল মনে কুরআনের বীজ বোনার বদলে বপন হচ্ছে পাশ্চাত্যের বিষ।যে মা নিজেই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-র হাকীকত থেকে দূরে, তার সন্তান কী করে আল্লাহর ওলী হবে?

যে চোখজোড়া কুরআনের পাতায় নিবদ্ধ থাকার কথা ছিল, সেই চোখ আজ আধুনিকায়নের মিথ্যে মরীচিকার পেছনে ছুটছে। স্বামীর সেবা, স্বামীর আনুগত্য যে নারীর জীবনে একমাত্র পাথেয় হওয়ার কথা ছিলো, সেই নারী আজ নিজেকে বস্তুবাদের পণ্য বানাতে ব্যস্ত। এসব ধ্যান জ্ঞান নিজের সন্তানকে যেমন মায়া-মমতাহীন এক রোবটে পরিণত করছে, পাশাপাশি স্বামী, সংসার এবং পরিবারের ফরজ দায়িত্ব উপেক্ষা করে নিজেকে জাহান্নামের জ্বালানি হিসেবেই তৈরি করছে।

উম্মাহর এই দুঃসময়ে একমাত্র মায়েরাই তথা মুসলিম নারীরাই পারে ভঙ্গুর মেরুদণ্ডের এই প্রজন্মকে পতন ও গোমরাহির হাত থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। যা বাস্তবায়নে প্রয়োজন মুসলিম নারীদেরকে প্রকৃত আল্লাহর বান্দীতে পরিণত করা।

এখনই সময় লাগামহীন জীবনে লাগাম টানার, এইতো সময় ঘরের রাণীদের ঘরে ফেরার। তালিম, তারবিয়াহ আর ইলম অর্জনের মাধ্যমে নিজেদেরকে গড়ে নিয়ে সন্তানের কোমল মনে কুরআন-সুন্নাহর নূরে আলোকিত করার, উম্মাহর কান্ডারি হিসেবে গড়ে তোলার।

তা’লিমুন নিসার উদ্দেশ্য উম্মাহর মা-বোনদেরকে সোনালী যুগের মহিয়সী নারীদের মতন ঈমানী তাকাত, আমলী জজবা, উত্তম আখলাকে সজ্জিত করে দ্বীনের খেদমতের ফিকির নিয়ে সংসারের দায়িত্ব পালন,  সন্তান লালন পালন এবং দাওয়াতী কাজের মাধ্যমে উম্মাহর কান্ডারি তৈরী করার জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা।  যাতে করে উম্মাহ আবার তার স্বর্ণালী যুগে ফিরে যেতে পারে ইন শা আল্লাহ।
সেই লক্ষ্যে চোখে অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে ছোট ছোট পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা মেহনত নিরলস মেহনত করে যাচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ।   

আল্লাহ তাঁয়ালা মেহনতগুলোতে বারাকাহ দিন, কবুল করে নিন। আমীন।

তালিমুন নিসার দাওয়াত পৌঁছে দিতে তালিমুন নিসার পরিচয় সহ সকল লিংক সম্বলিত বুকলেটটি সংগ্রহ করুন –  https://www.facebook.com/p/Al-Maarij-Point-61550100693109/

 

Shopping Cart